পরিবারের মেলেনি স্বীকৃতি, ইঁদুরের বিষ খেয়ে প্রেমিকের পর প্রেমিকারও মৃত্যু
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
গাইবান্ধার সাঘাটায় পারিবারিক স্বীকৃতি না পেয়ে ইঁদুর মারার বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক তরুণ ও এক যুবতীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। প্রেমিকার মৃত্যুর এক দিনের মাথায় আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন প্রেমিক আল আমিন (২২)। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় একদিকে যেমন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, অন্যদিকে পুরো চরাঞ্চল জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা।
নিহতরা হলেন—উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর (কলেজ মোড়) এলাকার আজাদুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২২) এবং একই উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নের ডিমলা পদুমশহর গ্রামের সাইফুল আকন্দের মেয়ে তাসলিমা আক্তার তানজমিন (১৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে আল আমিনের সঙ্গে তাসলিমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের কিছুদিন পর আল আমিন জানতে পারেন যে তাসলিমা বিবাহিতা এবং ফরহাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছে। এমনকি তাঁদের সংসারে দুই বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে সম্পর্কের গভীরতা বেশি থাকায় সবকিছু জেনেও তাঁরা প্রেম চালিয়ে যান।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ অক্টোবর আল আমিন তাঁর প্রেমিকা তাসলিমাকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়িতে যান এবং তাঁকে বিয়ে করে ঘরসংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু আল আমিনের পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নিয়ে দুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকাল ১১টার দিকে তাঁরা পুনরায় আল আমিনের বাড়িতে যান। এদিনও পরিবারের লোকজনের কঠোর প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়ে দুজনে একযোগে ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।
তাৎক্ষণিকভাবে স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁদের গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যেই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাসলিমা আক্তার তানজমিনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত ৯ অক্টোবর পরিবার কর্তৃক বিতাড়িত হওয়ার পর তাঁরা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের পর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই ১২ অক্টোবর দ্বিতীয়বারের মতো আল আমিনের বাড়িতে যান তাঁরা; কিন্তু সেখানেও প্রত্যাখ্যাত হন।
ঘটনার বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন ও পথিমধ্যে তাঁদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “তদন্তে আল আমিন ও তাসলিমার নতুন করে বিয়ের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাসলিমা যে পূর্বে বিবাহিতা ছিলেন এবং তাঁর একটি দুই বছরের সন্তান রয়েছে—তা পুলিশি অনুসন্ধানে প্রমাণিত।”
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.