মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক সটাফ রিপোটার
নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
|
নেত্রকোনায় ১১ বছরের এতিম শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক গ্রেফতার। পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল এতিম ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন ও সুশিক্ষায় বড় করা। কিন্তু সেই পবিত্র আশ্রয়ের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক ভয়ংকর দস্যু।
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফাতেমাতুজ জোহরা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের লালসার শিকার হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ১১ বছরের এক শিশু। মাত্র ২৯ কেজি ওজনের সেই শীর্ণকায় শিশুটি এখন অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার আড়ালে বীভৎস সত্য শিশুটির বাবা নেই। মা অনেক আশা নিয়ে মেয়েকে তুলে দিয়েছিলেন পরিচিত ‘হুজুর’ আমান উল্লাহ সাগরের আশ্রয়ে। কিন্তু সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে বারবার ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক। মাত্র সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার শিশুটি বুঝতেই পারেনি তার শরীরের ওপর দিয়ে কী ভয়াবহ ঝড় বয়ে গেছে। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং পেটে অস্বাভাবিক কিছু নড়াচড়া অনুভব করার কথা জানালে মা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
তখনই বেরিয়ে আসে সেই হাড়হিম করা সত্য—১১ বছরের এই ছোট্ট শরীরটি এখন আরেকটি প্রাণের ভার বহন করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির তলপেটের আকার তার মাথার চেয়েও ছোট, যা প্রসবকালে তার জীবনের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর এবং শিশুটির মা মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে যান। তবে পালানোর মাঝেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচারের আহ্বান জানান। তার এই দ্বিমুখী আচরণ ও ধৃষ্টতা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে।র্যাবের অভিযানে অবশেষে আটকভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন সাগর।
অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ মে ২০২৬ ভোরে ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর থানার সুনামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪-এর একটি চৌকস দল।র্যাব জানায়, অদ্য ভোর ৪:১৫ ঘটিকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি কোনো সদুত্তর না দিলেও তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।জনমনে ক্ষোভ ও বিচারের দাবি যিনি এতিমদের অভিভাবক হওয়ার কথা ছিল, সেই শিক্ষকের এমন বিকৃত লালসার শিকার হয়ে শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।
এলাকাবাসী ও সচেতন সমাজ এই পৈশাচিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, এই বিচার যেন সমাজের অন্য সব অপরাধীর জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.