নীলফামারীতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, আটক ৪
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ছোট ছেলেকে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তহমিনা আক্তার মিনা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। জমি ও ফসল কাটা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে তাকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা বেগম ওই এলাকার মো. জামিনুর রহমানের স্ত্রী।
আটককৃতরা হলেন—উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), মো. আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নাল হকের স্ত্রী মোছা. ছবিরন (৫০) এবং আয়নাল হকের মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মিনা বেগমের বড় ছেলে মিলনের (২৬) সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের (২২) বিয়ে হয়। কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি জামাতা মিলনকে চাষাবাদের জন্য দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর ওই জমির দখল, চাষাবাদ এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাধে।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠকও হয়েছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, বর্তমান মৌসুমের ধান কাটা শেষ হলে পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।
সালিশের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য ধানগাছের অবশিষ্টাংশ কাটতে যান মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪)। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন।
ছেলের চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান মা মিনা বেগম। কিন্তু ক্ষিপ্ত হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর চালায়। এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিনা বেগম এবং মুহূর্তেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান ও হযরত আলী জানান, মিনা বেগমের মৃত্যুর পরও অভিযুক্তরা নির্বিকারচিত্তে ওই জমিতে ধান কাটতে থাকেন। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ধান কাটারত অবস্থায় চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন।
খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটককৃতদের থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুক ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.