নবাব খাজা সলিমুল্লাহ রহ. এর ১৫৫ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে অদ্যকার আয়োজিত সভায় উপস্থিত হাজেরানে মজলিস।
আসসালামু আলাইকুম।
নবাব সলিমুল্লাহকে যদি বাংলাদেশের আলোকে আলোচনা করি তাহলে তা অসম্পূর্ণ হবে। উনাকে বুঝতে হলে সার্বিক ইসলামের ইতিহাসের আলোকে আলোচনা করতে হবে।
ইসলামের ইতিহাসে ১৭৫৭ সালটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই সনে ইসলামী সাম্রাজ্য সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে। ইউরোপের দানিয়ূব নদী হতে বার্মার নাফ নদী পর্যন্ত এবং মরক্কো হতে ফিলিপিনের মিন্দানাওয়া পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। ১৭৫৭ সালকে ইসলামের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ধরে নেয়া হয়। কারন এই বছর মুসলিম সালতানাতের পূর্ব ফ্রন্টে অবস্থিত বাংলার পলাশী প্রান্তরে ইংরেজদের নিকট মুসলিম বাহিনীর শোচনীয় পরাজয়ের পর ইসলামী সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয়। অথাৎ মুসলিম সাম্রাজ্যের পতন শুরু হয় বাংলা হতে।
১৭৫৭ পরবর্তী ১০০ বছরে মুসলিম সাম্রাজ্য ধীরে ধীরে পতনের দিকে ধাবিত হয় । উসমানীয় সালতানাত ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছিল , সাফাভীদের পতনের পর ইরানের অনেক এলাকা রাশিয়ার জাররা দখল করে নিচ্ছিল । মধ্য এশিয়ার বিশাল ভূখন্ড রাশিয়ার পদতলে নিস্পেসিত । ভারতের মুসলিম রিয়াসতগুলো একের পর এক ইংরেজদের পদানত হচ্ছিল । মালয় গ্যালিপলির মুসলিম দেশগুলো অমুসলিমদের পদতলে । আফ্রিকার মুসলিমে এলাকাগুলো ইউরোপীয় শক্তির পদানত হচিছল । অবশেষে ১৮৫৭ সালের ভারতে মোগল সাম্রাজ্যের পতন হলে মুসলমানদের পতন দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে যায় ।
১৮৫৭ সালের পর পরবর্তী একশত বছর মুসলিম ইতিহাসের এক আমাবস্যার রজনীর ন্যায় অন্বকার নেমে আসে । এই দূর্যোগপূর্ন অবস্থা ইসলামের ইতিহাস ইতিপূর্বে অবলোকন করেনি । এ সময় উসমানীয় সালতানাতকে ইউরোপের রুগ্ন ব্য্যাক্তি হিসেবে ঘোষনা করা হয় । ১৮৫৭ সাল হতে ১৯০৫ সাল পর্র্যন্ত কমবেশী ৫০ বছর পৃথিবীর মুসলমান বিশেষ করে ভারতীয় মুসলমানদের সামনে হতাশা আর অন্বকার । এদিকে উসসানীয় খিলাফত অক্সিজেনের মাধ্যমে কোন রকম শ্বাস প্রস্রাশ নিচ্ছিল ।
মুসলমানদের রাজনৈতিক এই অন্বকার যুগে মুসলিম জাহানের পূর্র্ব ফ্র্রন্টে বাংলা যেখান হতে ১৭৫৭ সালে মুসলিম জাহানের পতনের সূচনা হয়েছিল , আবার সেই বাংলা হতে মুসলমানদের আজাদীর সূচনা ঘটে । এই প্রান্তে মুসলমানদের আজাদীর সুবহে সাদিকের সূচনা হয় । এই সূচনাকারী হলেন নবাব খাজা সলিমুল্লাহ । ১৯০৫ সালে বংগভংগের ফলে পূর্ব বাংলা ও আসামকে নিয়ে ঢাকাকে রাজধানী করে একটি মুসলিম অধূষ্যিত প্রদেশ গঠন করার ফলে মুসলমানদেরকে রাজনৈতিকভাবে আবার ঘুরে দাড়ানোর একটি সুযোগ করে দেয় ।
১৯০৫ সালে বংগভংগ হওয়ার ফলে ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্টা ইসলামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা । এই মুসলিম লীগ গঠন হওয়ার পর মুসলমানদের আজাদীর পথ উম্মোচিত হয় । এই দৃস্টিকোন হতে নবাব খাজা সলিমুল্লাহ হলেন বিশ্ব মুসলিম আজাদীর অগ্রদূত । ইতিহাসের এক অমোঘ সত্য্য হল এই যে, যেই বাংলা হতে মুসলমানদের আজাদীর সূর্র্য অস্তমিত হয়েছিল , সেই বাংলার বুক হতেই মুসলিম লীগ গঠনের মাধ্যমে আজাদীর বীজ বপন করা হয় ।
এবার আস যাক ভারতীয় মুসলমানদের প্রেক্ষাপটে নবাব সলিমুল্লাহর এর মূল্যায়ন । ৭১১ সালে মুহাম্মদ বিন কাসিম ভারতে ইসলামের পতাকাতলে আনয়ন করার পর ১৯০৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় মুসলমানরা এক পতাকাতলে সমবেত হতে পারেনি । একমাত্র নবাব সলিমুল্লাহ ভারতীয় মুসলমানদেরকে এক পতাকাতলে আনতে সক্ষম হয় । ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনের সময় সব ভারতীয় মুসলিম নেতাগন ঢাকায় মুসলমানদেরকে এক পতাকাতলে সমবেত হয়েছিল । এই ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহ ভারতীয় মুসলমানদের এক্যের প্রতীক ।
এবার আসা যাক , বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নবাব সলিমুল্লাহ এর মূল্যায়ন । ১৯০৫ সালে বংগভংগ ও ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠন এবং মুসলিম লীগের পতাকা তলে কায়েদে আজমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্টা এবং পাকিস্তানের সূত্রে বর্তমান বাংলাদেশ এর অস্তিত্ব নবাব সলিমুল্লাহের অবদান । এই হিসেবে নবাব সলিমুল্লাহ বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান এই দুইটি মুসলিম রাষ্ট্রের বীজ রোপনকারী ।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে , বাংলাদেশের লিগ্যাসী কি ?
প্রতিটি রাষ্ট একটি লিগ্য্যাসী বহন করে । বর্র্তমান রাশিয়া জার সাম্রাজ্য ও খ্রীষ্টান অর্থোডাক্স এর লিগ্যাসী বহন করে । তুরস্ক উসমানীয় খিলাফতের লিগ্য্যাসী বহন করে । ইরান প্রাচীন পারসিক সাসানী ও সাফাভী সাম্রাজে্য্যর লিগ্যাসী বহন করে । পাকিস্তান মোগল সাম্রাজ্য্যের লিগ্য্যাসী বহন করে । এখন বাংলাদেশের লিগ্য্যসী কি ?
মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে যদি দাবী করেন তাহলে আপনার লিগ্য্যাসী কি , আপনার লিগ্য্যাসী হতে হবে মুসলিম লিগ্য্যাসী । এই বাংলাদেশ নামক ভূখন্ডটি হল দুটি পেীত্তলিক সভ্যতা অথাৎ হিন্দুত্ববাদের ভারতীয় রাষ্ট্র এবং বেীদ্ব ধর্মের বার্মা এই দুইটি সভ্যতার মধ্যে মুসলিমদের জন্য্য একটি রাষ্ট্র একমাত্র মুসলিম জাতিসত্বার জন্য্য হয়েছে । এই মুসলিম জাতিসত্বার উম্মেষ ঘটেছে ১৯০৫ সালের বংগ ভংগের মাধ্যমে এবং ১৯০৬ সালের মুসলিম লীগের গঠনের মাধ্যমে । এই হিসেবে নবাব সলিমুল্লাহ হলেন মুসলমানদের নিকট অতীতের মুসলিম লিগ্যাসীর উৎস । নবাব সলিমুল্লাহ হলেন এই মুসলিম ভূখন্ডের লিগ্যাসীর উৎস এবং ইসলামের ইতিহাসের লিগ্যাসীর ধারাবাহিকতা ।
যদি নবাব সলিমুল্লাহ না হত শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়িউর রহমান এমনকি আজকের বাংলাদেশের সরকারী কাঠামোতে অধিষ্টিত প্রধানমন্ত্রী , সচিব, বিচারপতি , সেনাপতি বড়জোর কলকাতা রাইটার্র্স বিল্ডিংয়ের কেরানী অথবা দারোয়ানের চাকুরী পেতেন কি না , সন্দেহ আছে । কাজেই আজকের সরকারী কাঠামোতে অধিষ্টিত ব্যাক্তিগন নবাব সলিমুল্লাহ ব্য্যতিত শূন্য্য ।
নবাব সলিমুল্লাহ এর নাম কি জন্য্য এদেশে উপেক্ষিত ?
এবার আসা যাক আমরা এত কিছু অবদানের পরও সলিমুল্লাহ কে কি জন্য স্মরণ করি না, এর অন্যতম কারণ হলো এই ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদ , এই ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা বাঙালি মুসলিম হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে। এইসব অকৃতজ্ঞ বাঙালি মুসলমানরা নিজেদের অজান্তেই ভারতের এবং হিন্দুত্ববাদের দালালিতে লিপ্ত । কারণ আপনি যদি বাঙালি মুসলমান শব্দটি উচ্চারণ করেন তাহলে এর অর্থ দাঁড়াই যে আপনি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের কথা বলতেছেন , বাঙালি মুসলমান অর্থ হল আপনি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান এবং আপনি অন্যান্য ভাষাভাষী মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থাৎ আপনি উর্দুভাষী মুসলমান নবাব সলিমুল্লাহর কোন লিগাসি বহন করেন না অথচ ইতিহাসের দিকে দেখা যায় যে, এই ভূখণ্ডে মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান অপেক্ষা উর্দু ভাষাভাষী মুসলমানদের অবদান অনেক অনেক বেশি , এক নবাব সলিমুল্লাহ এর অবদান এর সাথে বাংলাদেশের যত বাংলা ভাষাভাষী নেতা রয়েছে তাদের অবদান সলিমুল্লাহ এর অবদানের ধারে কাছেও নেই ।
যদি আপনি বাংলা ভাষাভাষী বাঙালি মুসলমান হিসেবে দাবী করেন সোহরাওয়ার্দী যিনি উর্দুভাষী ছিলেন তার অবদানকে আপনি অস্বীকার করবেন । যদি আপনি মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হন তাহলে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান এর পাশাপাশি উর্দূ ভাষী মুসলমানদেরকেও ধারন করতে হবে । উনাদের মুসলিম লিগ্যাসী বহন করতে হবে । যে সব ভারতীয় দালালরা বাংগালী মুসলিম বলে চিল্লাচিল্লি করে তাদের আদর্শিক পুরুষ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তিনি নিজেও একজন উর্দুভাষী বংশোদ্ভূত । তার পিতা ওয়াজেদ আলী ছিলেন একজন উর্দুভাষী মুসলিম ।
মুসলিম জাতীয়তাবাদ কুরআন ও সুন্নাহের অনুসারী , এজন্য্যই মুসলিম জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে ভাষাকে প্রাধান্য না দিয়ে শুধুমাত্র ইসলামী আদর্শকে গুরুত্বারোপ করে । জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে ভাষাকে প্রাধান্য দেয়া মানে হল ইসলামের সাথে যুদ্বে জড়ানো । মুসলমানদের পতনের অণ্যতম কারন হল ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ । নবাব সলিমুল্লঅহ মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন যার জন্য নিজে উর্দুভাষী মুসলমান হয়েও বাংলা ভাষাভাসী মুসলমানদের জন্য নিজের সহায় সম্পত্তি উৎসর্গ করেচিলেন ।
নবাব সলিমুল্লাহ এর লিগ্য্যাসী আপনাকে অবশ্যই বহন করতে হবে । যদি নবাব সলিমুল্লাহ কে আপনি ধারণ না করেন তাহলে মুসলিম দেশ হিসেবে আপনার দাবি করার কোন নৈতিক ভিত্তি নেই।
এমতাবস্থায় এই বাংলাদেশকে মুসলিম দেশ হিসাবে দাবি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নবাব সলিমুল্লাহকে এদেশের রূপকার এবং প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে । আসুন আমরা মুসলিম হিসেবে মুসলিম জাতীয়তাবাদ ও নবাব সলিমুল্লাহর এর লিগাসি বহন করি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবাব সলিমুল্লাহকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক ।
মুসলিম জাতীয়তাবাদ----------------জিন্দাবাদ
প্যান ইসলামিজম--------------------জিন্দাবাদ
খিলাফত------------------------------জিন্দাবাদ
নবাব সলিমুল্লাহ----------------------জিন্দাবাদ
বাংলাদেশ -------------------------জিন্দাবাদ
মোস্তফা জামাল ভূইয়া
চেয়্যারমান, প্যান ইসলামিক মুভমেন্ট বা ্লাদেশ---
---------------------=----------------------------------------------------
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.