নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) গোপালগঞ্জ প্ল্যান্টের ভান্ডার বিভাগের সাবেক কর্মচারী পলাশ কুমার ঠাকুর সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপালগঞ্জ শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকার একটি ছোট টিন–শেড ঘরে বড় হয়ে ওঠেন পলাশ ঠাকুর। শৈশব ও কৈশোরে আর্থিক অনটনের মধ্যে টঙ দোকানে মিষ্টির প্যাকেট বিক্রি করে পরিবারের সহায়তা করতেন। পরে লেখাপড়ার জন্য শহরে অবস্থানকালে সাহা সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে বিয়ে করে ঢাকা চলে যান।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো রাজনৈতিক পদে না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে পলাশ ঠাকুর প্রথমে শ্রমিক হিসেবে ইডিসিএলে যোগ দেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে অফিসার পদে উন্নীত হন। একাধিক কর্মচারী তার বিরুদ্ধে চাল ও অন্যান্য মালামাল আত্মসাতের অভিযোগ তুললে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এক সাবেক এমডির সুপারিশে ২০১০ সালে তিনি পুনরায় ইডিসিএলে চাকরি ফিরে পান এবং পরবর্তী সময়ে নিজেকে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে অবৈধ নিয়োগ–বদলি বাণিজ্যসহ দালালির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে রাজধানীর মেরাদিয়া এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল করে তিনি একটি ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পলাশ ঠাকুরকে তেজগাঁওয়ের এক বিএনপি নেতাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা গেছে—যা নিয়ে নানারকম আলোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর আরেক দাবি, গত এক মাস ধরে পলাশ ঠাকুর ভারতের মোচলন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জমিও ক্রয় করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বিক্রি করে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে এসেনসিয়াল ড্রাগস, সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় জনমনে দাবি—উত্থাপিত গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.