সৌদি আরামকোর শিল্প অগ্নিনির্বাপণ কোম্পানির জাজান শোধনাগারের একটি স্থাপনায় লেগে যাওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, “ঘটনাটি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।” তবে আ/গুনের সূত্রপাত, এর পরিধি কিংবা কোনো হ/তাহত বা ক্ষ/য়ক্ষতি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
জাজান শোধনাগার কমপ্লেক্সটি সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাজান শহরে অবস্থিত। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি এই বিশাল শিল্প স্থাপনাটি অঞ্চলটিকে একটি বহুমুখী অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
বড় শোধনাগার ও বিদ্যুৎ কমপ্লেক্স
জাজান শোধনাগার কমপ্লেক্স আরামকোর গুরুত্বপূর্ণ ডাউনস্ট্রিম প্রকল্পগুলোর একটি। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এ স্থাপনার।
এখানে গ্যাসোলিন, অতি-স্বল্প সালফারযুক্ত ডিজেল এবং বেনজিন ও প্যারাজাইলিনের মতো পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করা হয়।
শোধনাগারটি একটি বড় গ্যাসিফিকেশন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সঙ্গেও সমন্বিত। এর মাধ্যমে কম মূল্যের উপজাতকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও শিল্প গ্যাস উৎপাদন করা হয়।
আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, সমন্বিত গ্যাসিফিকেশন কম্বাইন্ড-সাইকেল (আইজিসিসি) কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩ দশমিক ৮ গিগাওয়াট পর্যন্ত। শোধনাগার ও আশপাশের শিল্প স্থাপনাগুলোতে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
সমন্বিত উৎপাদন ব্যবস্থা
কমপ্লেক্সটিতে গ্যাসিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে শোধনাগারের ভারী উপজাতকে সিন্থেসিস গ্যাস বা সিনগ্যাসে রূপান্তর করা হয়। এই গ্যাসে প্রধানত হাইড্রোজেন থাকে।
উৎপাদিত হাইড্রোজেন শোধন প্রক্রিয়ায় জ্বালানি থেকে সালফার অপসারণে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন গ্যাসোলিন ও ডিজেল উৎপাদন সম্ভব হয়।
এ ছাড়া গ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য তাপ ও বাষ্প কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। এতে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শক্তির অপচয় কমানো সম্ভব হয়।
আরামকো জানিয়েছে, শোধনাগার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও উপজাত পুনরুদ্ধারকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং নি/র্গমন কমানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
জাজান প্রকল্পটি ওই অঞ্চলে একটি বড় শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে নেওয়া বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
আরামকোর হিসাব অনুযায়ী, পুরো কমপ্লেক্সে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রকল্পটির মাধ্যমে ১,৩০০-এর বেশি সৌদি নাগরিকের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি এই অঞ্চলে নতুন শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এতে শোধনাগারের ছাই থেকে নিকেল ও ভ্যানাডিয়ামের মতো ধাতু পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এর ফলে ল্যান্ডফিলে পাঠানো বর্জ্যের পরিমাণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে রবিবারের আ/গুনের ঘটনায় জাজান শোধনাগারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বা উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য জানায়নি।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.