ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণ, গোপন ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী তরুণী গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ধানমন্ডি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চল (২৪)-এর সঙ্গে ভুক্তভোগীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অমর একুশে হলের আবাসিক ছাত্র।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কথা বলে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে। সামাজিক সম্মান ও ভয়ভীতির কারণে তিনি তখন প্রতিবাদ করতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই ঘটনার সময় অভিযুক্ত গোপনে ভিডিও ধারণ করে এবং তা দেখিয়ে বারবার ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।
প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত তাকে বিবাহের আশ্বাস দেয়। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে এবং পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। তবে পরে তিনি বুঝতে পারেন, অভিযুক্তের বিবাহের প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতারণামূলক।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তের ডাকে ধানমন্ডিতে গেলে ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে ধানমন্ডি মডেল থানাধীন একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে পুনরায় বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তাকে বিবাহ করা সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্তের পরিবারও বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং যোগাযোগ না রাখার জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অভিযুক্তকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানেও সে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়।
মামলার পর গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল প্রশাসন এক জরুরি সভায় অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের আবাসিক সিট সাময়িকভাবে বাতিল করে তাকে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনগত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং হলের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার পর ভুক্তভোগী আরও ভয়াবহ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবি, অভিযুক্তের দুলাভাই ইশতিয়াক আহমেদ তাকে সহযোগিতা করে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত বার্তা ও তথ্য বিভিন্নজনের কাছে ছড়িয়ে দেন। এছাড়া অভিযুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে সামাজিক অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চরম মানসিক চাপে একদিন ওই তরুণী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। পরে হল প্রশাসনের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ ডিসেম্বর অভিযুক্ত মেসেঞ্জারে ফোন করে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয় এবং মামলা চালিয়ে গেলে তাকে ও তার পরিবারকে আজীবন ক্ষতির হুমকি দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
বার্তা সম্পাদক : মোঃ বদিয়ার মুন্সী
মফাস্বল সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান।
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকঃ আসাদুজ্জামান খান মুকুল
www.dainikbanglarsangbad.com
ইমেইলঃ dainikbanglarsangbad490@gmail.com
প্রধান কার্যলয়ঃ ৩৬০/১,২তলা ভিটিবির নিকটে,
ডি আইটি রোড রামপুরা ঢাকা।
মোবাইলঃ01736-091515, 01716-698621
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Copyright © 2026 dainikbanglarsangbad.com. All rights reserved.