এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইতে মাইক্রোফোন/বুমধারী সাংবাদিক নামধারীদের অবাধ বিচরণে যে কোনো প্রোগ্রামস্থলের নেতা-কর্মী এবং সম্মানীত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দেয়!
সারাদেশের কথা কেমন জানা না গেলেও উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় এক শ্রেণীর দু'নম্বরী ধান্দাবাজ ব্যাক্তিদের আবির্ভাব ঘটেছে গত ৫ আগষ্টের ফর থেকে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে যে সব ব্যাক্তিদের চেহারা সুরত ও দেখেনি কেউ তারা ৫ আগষ্টের পরে সাংবাদিক সেজে অবাধ বিচরণ করে দালালী এবং দু'নম্বরী ধান্দাবাজির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়।
বর্তমানে দেশে অবাধ তথ্য-সাংবাদিকতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর ব্যাক্তি বিশেষ ব্যাঙের ছাতার মতো ব্যবসায়ীক চিন্তা ধারায় গড়ে তুলেছেন সংবাদপত্র! দেশের নামিদামি সংবাদপত্রকে পাশ কাটিয়ে নামে বেনামে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ বের করা হিড়িক ফেলে দিয়েছে। সেই সাথে অগ্রকাতারে রয়েছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল।
আর ওই সব ধান্দাবাজরা বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষিত-অশিক্ষিত এবং মুর্খ ব্যাক্তিদের কাছ থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে মহান পেশা সাংবাদিকতার আইডি কার্ড। এর মধ্যে আইপি টিভি নামক কতোগুলো ইউটিউব চ্যানেল তো সাংবাদিকতা পেশাকে একেবারেই গ্রাস করে ফেলছে।
ওই সব ব্যাক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র ৫০০-১০০০ হাজার টাকা দিয়ে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে তা গলায় ঝুলিয়ে অবাধ বিচরণ করে নানাবিধ: প্রশ্নাতীত ঘটনার জন্ম দিয়ে চলছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে- মাইক্রোফোন/বুম সম্বলিত সাংবাদিকতা।
উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইতে বর্তমান সময়তে ওই সব মাইক্রোফোন/বুম সমেতো সাংবাদিক নামধারীদের জ্বালা পালা সিমাহীন বেড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক সহ যে কোনো প্রোগ্রামে উপস্থিত নের্তৃস্থানীয় সহ আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করে চলেছে। বিভিন্ন আইপি টিভি (ইউটিউব চ্যানেল) এবং বিভিন্ন পত্রিকার লোগো ব্যবহার করে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে মাইক্রোফোন/বুম কিনে নিয়ে তা হাতে করে সভা-সমাবেশস্থলে ভিড় জমিয়ে দেশের নামিদামি পত্রিকার সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ করনে সিমাহীন বাধার সৃষ্টি করে চলছে।
ওই সব নামিদামি পত্রিকার সাংবাদিকরা এক প্রকার তাদের কাছে কোণঠাসা/জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।
এর কারণ হিসেবে সর্বাল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ওই দু'নম্বরী ধান্দাবাজ সাংবাদিক নামধারীরা রাজনৈতিক দলীয় কিছু নেতা কর্মীর প্রটেকশন পেয়ে অবলীলায় তারা তাদের ওই হীন কর্ম চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে। অথচ, কেউ জানে না যে, ওই সব সাংবাদিকতা পেশার অজ্ঞ ব্যাক্তিরা যে ভিডিও করে তা কোন্ টিভি চ্যানেলে দেয় বা দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এবং ছবি তুলে কোন্ পত্রিকায় নিউজ দিতে পারে এবং পারবে ও।
তবে, দু'একটি পত্রিকায় আগোছালো ভাবে লিখে দিতে পারলে ও ওই সব পত্রিকা মার্কেট হীন। বিষয়টি সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ ওই সব রাজনৈতিক দলীয় নেতা কর্মীরা। তারা মনে করে থাকে-তাদের ভিডিও করা ছবি টিভিতে দেখানো হবে! এবং বিভিন্ন পত্রিকায় তাদের নাম-পদবী ও ছবি ছাপা হবে। আসলে বিষয়টি কিন্তু সেই রকম নয় যে তা তাদের মধ্যে অনেক নেতা কর্মী জানেন ও না। আর এই ভাবেই ওই সব সাংবাদিক নামধারীরা আবেগী কিছু নেতা কর্মীকে ব্লাক মেইলিং করে হাতিয়ে নিচ্ছ টাকা।
এই বিষয়ে প্রয়োজন মাফিক সাংবাদিক সমাজের উর্ধ্বতন ব্যাক্তি বিশেষরা সাংবাদিকতার মহান পেশাকে কলুষমুক্ত রাখতে সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এ ছাড়া- আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে দেশের নামিদামি পত্রিকার সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে তাদেরকে একপাশে রেখে অপ সাংবাদিকতায় লিপ্ত থাকা ব্যাক্তিদের সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
তবে, এতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কে অবশ্যই পূর্নাঙ্গ সহযোগিতা করে যেতে হবে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের ব্যাক্তি বিশেষদেরকে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.