বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন সুরুপাইতলী এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে এক পূর্বপরিকল্পিত সশস্ত্র হামলায় তিন নারী আহত হয়েছেন। হামলার সময় ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খোঁজ নিয়ে জানাযায়,কিাশোর গ্যাং ও ভাড়াটে খুনিরা প্রতিনিয়ত এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসী হামলায় গৃহবধূ মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার (২৭) গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁর মাথার দিকে ধারালো রামদা দিয়ে কোপ মারতে গেলে তিনি হাত তুলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর বাম হাতের কনিষ্ঠা, অনামিকা ও মধ্যমা আঙুলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং দুই আঙুলের রগ কেটে যায় বলে পরিবার জানায়।সুরাইয়াকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে মোছাঃ আকলিমা বেগম আমিনা (৫৫)–কে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর কনুই ও গালে কাটা এবং থেঁতলে যাওয়া আঘাত লাগে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর,মোছাঃ নাছিমা: ৮৮০৭/১৫,মোছাঃ আকলিমা: ৮৮০৬/১৪,মোছাঃ সুরাইয়া আক্তার: ৮৭৯৯/৭,তাঁরা সবাই ২৭/১১/২০২৫ তারিখ থেকে চিকিৎসাধীন আছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ আহতদের পক্ষ থেকে মোছাঃ নাছিমা বেগম (৩৯) বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি—আসামিরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ শুধু অভিযোগ নেওয়া ছাড়াও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নাছিমা বেগম বলেন, “সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। নাছিমার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোঃ রিপন মোল্লার নেতৃত্বে মোঃ বিল্লাল হোসেন, নাজিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, মোছাঃ কাকলী আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭–৮ জন বহিরাগত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। তিনি জানান, “আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং ঘরে লুটপাট চালায়। হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। আমরা থানা পুলিশকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভূক্তভোগীরা জানায়, ছিনতাই–শ্লীলতাহানির অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় মোছাঃ কাকলী আক্তার নাছিমার গলা থেকে এক ভরি স্বর্ণচেইন (মূল্য প্রায় ২ লক্ষ ১২ হাজার টাকা) এবং তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। এছাড়া মোঃ বিল্লাল হোসেন সুরাইয়ার চুল ও জামাকাপড় টেনে শ্লীলতাহানি করেন, যার ফলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, ঘটনাস্থলে এসআই আরিফুল হক উপস্থিত থাকলেও নারী পুলিশ ছাড়াই এ হামলা সংঘটিত হয়। এমনকি ওসি মনির হোসেন তাঁকে ঘটনাস্থলে পাঠালেও হামলাকারীদের আঘাত–ভাঙচুর ঠেকাতে পারেননি। অভিযোগকারীদের দাবি—পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা জমি দখলের সুযোগ নিচ্ছিল। নাছিমা বেগম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই সশস্ত্র হামলা, ছিনতাই, শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযোগে জমি নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অপতৎপরতার অভিযোগ ছিল। তবে এ বিষয়ে কাশিমপুর থানা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিও নেয়া হবে। ভুক্তভোগীদের দাবি: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই । আমরা নিরীহ মানুষ। নারীদের ওপর এমন বর্বর আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।তিনি সাংবাদিকদের কাছে চিকিৎসাপত্র ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন কপিও উপস্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.