গাইবান্ধায় যুব অধিকার পরিষদ সভাপতিকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট।
০১৭১৭৭৭৬৯৭৩
২২ জুন, ২০২৬
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠন যুব অধিকার পরিষদের উপজেলা সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফের ওপর বর্বরোচিত হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গাইবান্ধা শহর থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন আরিফ। পথে উপজেলার ফলিয়ার পাথার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে বহনকারী অটোরিকশাটির গতি রোধ করে। এরপর তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে রাস্তার পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও পেটের উপরিভাগে একাধিকবার আঘাত করা হয়।
আহত আরিফের স্বজনরা জানান, হামলাকারীরা তাকে মাটিতে ফেলে হাত-পা চেপে ধরে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই পথ দিয়ে যাওয়া স্থানীয় এক ব্যক্তি টর্চলাইটের আলো ফেললে হামলাকারীরা বিচলিত হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় আরিফ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে অন্ধকার স্থানে আত্মরক্ষা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আরিফের পেটের ওপরের অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং গলার বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।
এদিকে, এই নৃশংস হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতা বা রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত রয়েছি। আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও যুব অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.