গাইবান্ধায় কৃষক খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেনি। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ও ফরিয়াদের দৌরাত্ম। তদন্ত দাবী।
মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
খাদ্য বিভাগ কর্তৃক গাইবান্ধা জেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ/ ২০২৬ মৌসুমের আওতায় ধান সংগ্রহের কৃষক হয়রানি এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ। অতিরিক্ত সংগ্রহকরা হয়েছে।
কৃষক খাদ্য গুদামগুলোতে সরাসরি ধান দিতে না পেরে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চলতি মৌসুমী বোরো ধানের এর সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ ও সংগ্রহকালীন সময়ে অনুমোদিত বাজার দরের নিরিখে সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা, আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা এবং প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা নির্ধারণপূর্বক সংগ্রহ করা হয়েছে।
তবে বাজারের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তাদের মধ্যে নানান প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কৃষকের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে,
প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা ধরে গুদামে দিতে পারলে সাধারণ প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হতেন।
৩৬ টাকায় প্রতি কেজি ধান বিক্রয় করে কৃষকদের খরচ উঠে না বলে পলাশবাড়ীর কৃষক আব্দুল হামিদ এ প্রতিনিধি কে জানিয়েছেন। তাও আবার কৃষক গুদামে ধান নিয়ে গেলে আদ্রতা এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি অভিযোগ। ওই একই ধান ফরিয়া গুদামে নিয়ে গেলে সব জায়েজ হয়ে যায়।
কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন কৃষক!!
অপরদিকে গোবিন্দগঞ্জের কৃষক সখিনা বেগম এবং আব্দুল লতিফ (নতু) জানান, স্থানীয় হাট বাজারের তুলনায় গুদামে দাম বেশি হওয়ায় আমরা খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারিনি।
গোবিন্দগঞ্জের কৃষক করিম মিয়া আমাদের প্রতিনিধি কে জানিয়েছেন সরকার কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহে কৃষকের নিকট থেকে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে ধান ক্রয় এর সিদ্ধান্ত নিলেও
গাইবান্ধা জেলায় প্রকৃত অনলাইন কৃত কৃষক ধান দিতে না পারায় সরকারের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।
গোবিন্দগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ হোসেন প্রকৃত কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ না করে যোগসাজস করে বিভিন্ন ফরিয়াদের নিকট থেকে হাট বাজার থেকে ধান সংগ্রহ করে নামে বেনামে ভাউচার করে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য ব্যাহত করছেন বলে দায়িত্বশীল মহলের দাবি।
সম্ভাব্য ৭ টি উপজেলায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল মোট ৯ ৫৬৩ মেট্রিক টন।
প্রাপ্ত তত্ত্বে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় এগারটি খাদ্য গুদামে মোট সংগ্রহ হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯৬ মেট্রিক টন। ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহের তারিখ রয়েছে।
পলাশবাড়ী, বামনডাঙ্গা, সুন্দরগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণের অসৎ আচরণে কৃষক ধান দিতে পারেননি। জেলার উল্লেখযোগ্য খাদ্য গুদামে কৃষক গণ সরাসরি ধান দিতে পারিনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অনলাইন তালিকাভুক্ত কৃষকগণ।
গাইবান্ধা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুন্ডুকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন,
বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে অভিযোগ ঘটেছে গাইবান্ধা জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের নুরে আলম প্রতিটি খাদ্য গুদাম থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪০০ টাকা করে আদায় করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বকশিশ সংগ্রহ কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে নুরে আলম কে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সংগ্রহ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বোরো ধানের এর সুফল কৃষক না পেয়ে মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া দালাল এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক গাইবান্ধা সহ কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পকেটে উঠেছে বলে সর্বোতভাবে গুঞ্জন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মহল।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.