কুড়িগ্রাম সীমান্তে পতাকা বৈঠকের পর বাংলাদেশি শিশুকে ফেরত নিল বিজিবি
অভিমান করে ভুলে ভারতে ঢুকে পড়েছিল ১২ বছরের জয়নাব
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর-নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর উত্তেজনা, পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তা এবং দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টানাপোড়েনের পর অবশেষে ১২ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু জয়নাব খাতুন ফিরে এসেছে তার পরিবারের কাছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জয়নাবকে শনিবার রাতে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এস সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ফেরত আসা জয়নাব খাতুন ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন ও নাজমা বেগমের মেয়ে। সে মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্র, সীমান্তবাসী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টার দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৯৪৩-এর সাব-পিলার ৩-এর নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা শিশুটিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি শিশুটির পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে গ্রহণে আপত্তি জানায়। এতে সীমান্তে দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে পুশইন-পুশব্যাক নিয়ে টানাপোড়েন। একপর্যায়ে বিকেলের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এদিকে সকাল থেকে নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে সীমান্ত এলাকায় এসে জয়নাবের মা নাজমা বেগম জানতে পারেন, বিএসএফের হেফাজতে একটি কন্যাশিশু রয়েছে। পরে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন যে আটক শিশুটি তারই মেয়ে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানানো হলে তারা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এবং শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়।
জয়নাবের মা নাজমা বেগম জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর সময় সে খাবার খেতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন খাবার প্রস্তুত না থাকায় তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে সে আবার বাড়িতে ফিরে খাবার চাইলে তার বাবা তাকে স্কুল শেষ করে এসে খেতে বলেন। এতে অভিমান করে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।
তিনি বলেন, “আমরা বুঝতেই পারিনি যে মেয়েটা অভিমান করে সীমান্তের দিকে চলে যাবে। পরে জানতে পারি সে ভারতের ভেতরে চলে গেছে। মেয়েকে ফিরে পেয়ে আমরা খুবই খুশি।”
শিশুটির বাবা জামাল উদ্দিন জানান, অভিমান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে জয়নাব অজান্তেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে। ’লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিটব্যাপী সংক্ষিপ্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে জয়নাবকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জয়নাবকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেয় ‘ তিনি বলেন।
কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম। শিশুটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ উদ্বেগের পর পরিবারটি স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।”
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন কাশিপুর বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মো. ইব্রাহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন,’ আমরা শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। “শিশুটি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে ঢুকেছিলো,’ তিনি বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.