কুড়িগ্রামের রৌমারী
সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে দুই ব্যক্তি নিখোঁজ, জানে না বিজিবি
ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় এখনো তিন ব্যক্তি খোলা আকাশের নিচে
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্ট।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে শূন্যরেখায় অবস্থানরত দুই ব্যক্তির খোঁজ মিলছে না। কয়েকদিন ধরে সীমান্তে অবস্থান করার পর বুধবার ভোরে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে তারা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নিখোঁজ হওয়ার এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে শূন্যরেখায় অবস্থান করার কারণে তারা অন্য কোথাও চলে যেতে পারেন। তবে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
নিখোঁজ দুই ব্যক্তি হলেন ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বেরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের রিটন মিয়ার ছেলে সজিব মিয়া (২৫) এবং একই গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে হিমেল মিয়া (১৮)।
অন্যদিকে, একই উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার আরও তিন ব্যক্তি এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থানরত তিনজন হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের পারভেজ (২১) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের নাঈম মিয়া (২২)।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্তে পৃথক দুটি ঘটনায় বিএসএফ দুই শিশু ও এক নারীসহ মোট নয়জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এর মধ্যে শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তে একই পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন এবং ভুন্দুরচর সীমান্তে তিনজনকে শূন্যরেখায় রেখে যায় বিএসএফ।
পরে গত ১৮ জুন রাতে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত ছয়জনের মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশু ও এক নারীসহ চার সদস্যকে মানবিক কারনে হেফাজতে নেয় বিজিবি এবং পরে রৌমারী থানা পুলিশের মাধ্যমে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তারা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বেরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার এবং তাদের দুই সন্তান—পাঁচ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার ও ছয় মাস বয়সী ফাহিমা আক্তার।
এদিকে ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থানরত জহিরুল, পারভেজ ও নাঈমের বিষয়ে জানা গেছে, তারা গত ১০ জুন দালালের মাধ্যমে সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের আসামের গৌহাটিতে ট্রেনে ভ্রমণকালে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ রয়েছে, এরপর ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর ক্যাম্পের সদস্যরা গত ১৪ জুন ভোরে জিঞ্জিরা নদীর সেতুর নিচ দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৬৬-এর ৭-এস উপপিলার সংলগ্ন শূন্যরেখার কাছে খোলা মাঠে অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, “বুধবার সকাল থেকে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই দুই ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে না। তারা কোথায় গেছেন বা কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.