কালীগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’
অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করছে তিন সদস্যের টিম।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
অনিয়ম-দুর্ণীতির অভিযোগ উঠায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা (পিআিইও) এইচ এম মাজহানুর রহমানকে ’স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) এ আদেশ। রবিবার রাতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আব্দুল মতিন।
অধিদপ্তরের দেয়া পত্রের বরাদ দিয়ে আব্দুল মতিন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে আজ সোমবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। ‘রবিবার বিকেলেই কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা এইচ এম মাজহানুর রহমানকে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে,’ তিনি বলেন।
তিনি জানান, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে একটি তদন্তকারী দল আসবে মঙ্গলবার। দলটি মাঠপর্যায়ে গিয়ে তদন্ত করবে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গেল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তদন্ত করছে।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ২৬৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এসব প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৫ কোটি ১৯ হাজার ৪৭৯ টাকা, ১৮৮ টন গম ও ১৮৪ টন চাল। গত ৩০ জুনের মধ্যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে—এমন মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
কালীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠণ করেন। তদন্ত দলটি গেল ২২ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল আলীকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) সহকারী প্রকৌশলী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গেল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কালীগঞ্জ উপজেলায় নেওয়া অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অনেক প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব নেই। এসব প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। ভুয়া বিলা ভাউচার দিয়ে সরকারি টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা এইচ এম মাজহানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠে।
কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলজার হোসেন জানান, অসংখ্য প্রকল্প আছে যেগুলোর মাঠপর্যায়ে কোন অস্তিত্ব নেই। কিন্তু কাগজে-কলমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে। ভুয়া প্রকল্প সভাপতি তৈরি করে ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে সরকারি টাকা উত্তোলণ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ‘আমাকেও একটি ভুয়া প্রকল্পে সভাপতি করা হয়েছে। আমি বিষয়টি জানতাম না। মাঠপর্যায়ে তদন্ত টিম আসার পর জানতে পারি এ প্রকল্প সম্পর্কে,’ তিনি বলেন।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ: রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ’প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় ২২ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত টিম মাঠপর্যায়ে তদন্ত করছে। ৭ কার্য্যদিবস তদন্ত করার পর তদন্ত টিম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে।’ ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে,’ তিনি বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.