কালভার্ট আছে, সড়ক নেই: নীলফামারীতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
উপকারের উদ্দেশ্যে নির্মিত বক্স কালভার্টটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি না করায় চালু হতে পারছে না কালভার্টটি। ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ও পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) অধীনে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনির হাটমুখী সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করেন। গ্রামীণ হাট-বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য কালভার্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কালভার্ট থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে, আটকে গেছে কৃষিপণ্য পরিবহন। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা।
পশ্চিম ছাতনাইয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে বলে, “কালভার্ট তৈরি হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। বৃষ্টির দিনে বাইপাস সড়ক পানিতে ডুবে যায়। কালভার্টের দুপাশে বড় গর্ত থাকায় আমাদের প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে পার হতে হয়। সংযোগ সড়কটি করে দিলে আমরা অন্তত যানবাহন নিয়ে নিরাপদে স্কুলে যেতে পারতাম।”
কৃষক হাসমত আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারের এত টাকা খরচ করে নির্মিত কালভার্টটি জনগণের কোনো কাজে আসছে না। এটি শুধু দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু ব্যবহারের কোনো উপায় নেই। দ্রুত সড়কটি নির্মাণের জোর দাবি জানান তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সাথে বিরোধ দেখা দেওয়ায় কাজ আটকে আছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এন অ্যান্ড সন্স’-এর প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম জানান, কালভার্টের মূল কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়কের মাটি ফেলা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণেই কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকায় ঠিকাদার এখনো বিল তুলতে পারেননি। এছাড়া বাইপাস সড়কের মাটি কেটে সংযোগ সড়কে ফেলার কথা থাকলেও স্থানীয়রা তা কাটতে বাধা দিচ্ছেন। দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “মাটি ফেলা সংক্রান্ত একটি সমস্যার কারণে সড়কটি নির্মাণে বিলম্ব হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উপজেলা প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণের আওতায় টুনিরহাট আরঅ্যান্ডএইচ কলোনির হাট জিসি সড়কে এই বক্স কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৭ টাকা চুক্তিমূল্যে জলঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এন অ্যান্ড সন্স’ কালভার্টটি নির্মাণ করে। তবে কালভার্টটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের পথ চেয়ে আছেন ভুক্তভোগী দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.