আজ একটা পুরনো কর্মের হিসাব খুঁজতে গিয়ে গ্যালারিতে হঠাৎ এই ছবিটা চোখে পড়লো।
থমকে গেলাম কিছুক্ষণ। ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনে হলো, সময় কত দ্রুত চলে যায়।
এই ছবিটা তোলা হয়েছিল ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর। তখনই আমার মুখে নবীর উম্মত হিসেবে দাড়ি রাখছিলাম। মনের ভেতর একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের একটা নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। বাহিরের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভেতরটাকেও বদলে ফেলতে হবে।
কিন্তু সময় যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম, দাড়ি রাখার আগে আমাকে সঠিক হৃদয়ের মানুষ হতে হবে। শুধু মুখে দাড়ি রাখলেই নবীর উম্মত হওয়া যায় না। আগে মনটাকে পরিষ্কার করতে হবে, হৃদয়টাকে সত্যিকারের মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। লোভ, হিংসা, অহংকার, প্রতারণা - এইসব থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হবে। তবেই দাড়ির মর্যাদা রক্ষা হবে।
সেই উপলব্ধি থেকেই আমি পাবলিক সোসাইটিতে মিশে গেলাম। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশলাম, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনলাম, তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলাম। আমি বুঝলাম, ঘরে বসে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবলে হবে না। মানুষের জন্য কিছু করতে হবে, সমাজের জন্য কিছু করতে হবে।
পুরনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। জীবনের সেই দিনগুলো, যখন অনেক কিছুই বুঝতাম না। কত ভুল করেছি, কতবার হোঁচট খেয়েছি, কতবার ভেঙে পড়েছি। আবার আল্লাহর রহমতে উঠে দাঁড়িয়েছি।
বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ ৪ বছর শেষ করতে যাচ্ছি। এই ৪ বছরে জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। সবচেয়ে বড় শিক্ষনীয় বিষয় হলো হরেক রকম মানুষ চেনা।
কত রকম মানুষ দেখলাম এই জীবনে। কেউ সামনে এসে বুকে জড়িয়ে ধরে, পেছনে গিয়ে বদনাম করে। কেউ বিপদের সময় সরে যায়, আবার কেউ অচেনা হয়েও বিপদে পাশে এসে দাঁড়ায়। কেউ টাকার জন্য সম্পর্ক রাখে, কেউ স্বার্থের জন্য ভালোবাসার অভিনয় করে।
তবে আমার কাছে মনে হয়, কারাগারের ভিতরের মানুষগুলোর চেয়ে কারাগারের বাইরের মুখোশধারী মানুষগুলো বেশি ভয়ংকর। কারণ ভিতরের মানুষের অপরাধটা সবার জানা। তাদের শাস্তি হয়, তাদের পরিচয় স্পষ্ট। কিন্তু বাইরের মুখোশধারীরা ভদ্রতার মুখোশ পরে ঘুরে বেড়ায়। মুখে মিষ্টি কথা বলে, অন্তরে বিষ পুষে রাখে। তাদের চেনা সবচেয়ে কঠিন, তাদের থেকে সাবধান থাকা সবচেয়ে জরুরি।
তবুও আমি হতাশ হইনি। আমি থেমে যাইনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, খারাপ মানুষের সংখ্যা যতই বেশি হোক, ভালো মানুষ এখনো আছে। এখনো অনেক মানুষ আছে যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের জন্য কাজ করে। তাদের ভালোবাসাই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।
তবুও আমরা আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে মানুষের জন্য কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। আমি একা কিছু করতে পারবো না। আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা আর সহযোগিতা ছাড়া কোনো বড় কাজ সম্ভব না।
আমার জীবনের সবকিছু মিলিয়ে একটাই চাওয়া - আমি যেন একজন সঠিক হৃদয়ের মানুষ হতে পারি। যেন মানুষ আমাকে দাড়ি দেখে নয়, আমার কাজ দেখে, আমার ব্যবহার দেখে, আমার সততা দেখে মূল্যায়ন করে। যেন মৃত্যুর পর মানুষ বলে, লোকটা ভালো ছিলো, মানুষের জন্য কিছু করে গেছে।
আমি সাংবাদিকতা করি, সমাজসেবা করি, রাজনীতি করি, ব্যবসা করি - সবকিছুর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য, মানুষের জন্য কিছু করা। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো।
জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছি, অনেক কিছু পেয়েছি। তবে হারানোর কষ্টের চেয়ে পাওয়ার আনন্দ অনেক বেশি। মানুষের দোয়া পেয়েছি, ভালোবাসা পেয়েছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
শুধু বলবো, আমাদেরকে দোয়া ও সহযোগিতা করুন। আপনাদের দোয়া থাকলে ইনশাআল্লাহ সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো কিছু করতে পারবো। দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পারবো।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন। ইতি মোঃ আবুল হাসেম প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বাংলার সংবাদ।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.