আগামী ১০০ বছরেও দেশে আর কোন গণ-অভ্যুত্থান হবে না-রুমিন ফারহানা
এম বাদল খন্দকার (বিশেষ প্রতিনিধি)
চব্বিশের আন্দোলনের স্বপ্ন ভেঙে গেছে দাবি, উগ্রবাদের উখান,ভাস্কর্য ভাঙচুর রাজনৈতিক আস্হার সংকট নিয়ে প্রশ্ন
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেছেন, দেশের মানুষ একটি গণ-অভ্যুত্থানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করলেও পরবর্তী বাস্তবতায় সেই আন্দোলনের প্রতি আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, এ কারণেই আগামী একশ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান ঘটবে না।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের যে স্বপ্ন ছিল, সেটিই ছিল শেষবারের মতো জীবন বাজি রেখে রাস্তায় নামার ঘটনা। কিন্তু পরবর্তীকালে মানুষ যখন দেখল, সেই আন্দোলনের অর্জন কতিপয় মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে এবং কিছু ব্যক্তি অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছেন—তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে মানুষ অসংখ্যবার ভাববে।’
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য নয়; এটি ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যে আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, হিজাব পরা ও হিজাববিহীন—সব শ্রেণির নারী একই কাতারে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের পর সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ আর বজায় থাকেনি। কেন সেই পরিবেশ হারিয়ে গেল—এ প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল এবং কেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও চব্বিশের আন্দোলনকে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা হয়েছে।
রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, ‘যদি মানুষ আগে জানত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তাহলে হয়তো অনেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেন।’
তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তাঁর মতে, দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা কোনো না কোনোভাবে হতাশ হয়েছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে গণতন্ত্র, জবাবদিহি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্র সংস্কারের চ্যালেঞ্জ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানার এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত।
এ বিষয়ে ভিন্নমত বা ভিন্ন বিশ্লেষণও থাকতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
01884-553490
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.