অথই নূরুল আমিন
গত ষোল বছরে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা কালে, তারা ভিন্ন মতের জনগণের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করেছিল বিভিন্নভাবে । এককথায় বলা যায়, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভিন্ন মতের জনগণকে কোনভাবেই সহ্য করতে পারত না। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে, ভিন্ন মতের কেউ কোনো অনুষ্ঠান পর্যন্ত করতে পারত না। এমনকি ভিন্ন মতের অনেকের ছেলে মেয়েদের বিয়ে সাদী পর্যন্ত শীতিল রাখা হতো বড় উৎসব থেকে । তারপর হয়রানিমূলক যত আচরণ আছে সবই কিন্তু আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি, জামায়াত, হেফাজতসহ সকল প্রকার ভিন্ন মতের সংগঠনগুলোকে কোনঠাসা করে রাখতে রাখতে একসময় আওয়ামী লীগের কিন্তু কঠিন ভাবে পতন হয়েছে। এই কথা কিন্তু বর্তমান সরকার দল বিরোধী দল সবাই জানে, আজকে যারা ক্ষমতায় আছে এবং বিরোধী আছে সবাই।
কথা থাকে যে, আওয়ামী লীগ ষোল বছর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যদি, তারা ভিন্ন মতের জনগণের সাথে মানবিক আচরণ করত। তাদের যা যা বলার বলুক, এরকম স্বাধীনতা যদি আওয়ামী লীগ তাদেরকে দিত। তাহলে কিন্তু অনেক দল বা ভিন্ন মতের অসংখ্য জনগণের আওয়ামী লীগের প্রতি কিন্তু একটা ভালোবাসা আসত। এবং অনেকেই আওয়ামী লীগকে ভালোবাসতে শুরু করত। বিদ্বেষ বা জনরোষ সৃষ্টি হয় তখনই, যখন একটা গুষ্ঠির কাছে আরেকটা গুষ্ঠি নির্যাতনের শিকার হয়। একসময় নির্যাতনের শিকার জনগুষ্টির দল বড় হয়ে যায়। তখনই তারা উল্টা প্রতিরোধের ডাক দেয়। আর তখনই সেই ক্ষমতাসীনদের পতন হয়। যা যা যুগে যুগে প্রমাণিত।
আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারাও কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে কঠিন নির্যাতনের শিকার হয়েছে সেদিন । যারা আজকে অসংখ্য আসন পেয়ে বিরোধী দল হয়েছে তারাও নির্যাতনের শিকার হয়ে কঠিন ভাবে । আমার কথা হলো আওয়ামী লীগ ষোল বছর ভিন্ন মত দমন করতে গিয়ে তাদের পতন হয়ে গেলো। আর আজকে আওয়ামী বিরোধী ভিন্ন মতের দলগুলোই কেউ ক্ষমতায়। কেউ বিরোধী। তাহলে তারা আওয়ামী লীগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না কেন? আজকে তারা যদি মানবিকতা মানবতা এবং ভিন্ন মতের জনগণের সাথে সুন্দর আচরণ করে তাহলে জনগণই তো আওয়ামী লীগের মন্দ দিক গুলো উচ্চারণ করবে বারবার। এতেই আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের ঘৃণা আরো বাড়তে থাকবে বলে আমি মনে করি। আওয়ামী লীগ যে ধরনের মন্দ কাজ করেছে। এখন কার ক্ষমতাসীন বা বিরোধীরা যদি সেই মন্দ কাজই করে তাহলে জনগণ তো বলবে। এক শালাও ভালো না।
গতকাল শাহবাগ থানার সামনে, ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করার কারণে, একদল যুবক তাদের সাথে খারাপ আচরণ করল। কেউ ব্যাটারী নিয়ে গেল। বেশ কয়েকজনকে থানায় দেয়া হলো। এখানে যে বিষয়টি করা হলো। তাতে কিন্তু সৌন্দর্য নষ্ট হলো। যারা মাইক বাজালো। তাদের সাথে যদি সুন্দর আচরণের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন যুক্তিতর্কের মাধ্যমে এই প্রচার বন্ধ করা হতো। তাহলে সেটি হতো মহতের কাজ। জনগণের কাছে আসত প্রশংসা।
সবসময় একটা কথা মনে রাখতে হবে। সেটা হলো "আজকে তোমার কালকে আমার " একজন মানুষকে যত ভালোবাসা যায়। ততই মঙ্গল। তাই ছোট খাটো বিষয় নিয়ে যখন তখন ভিন্ন মত দমন পীড়ন এগুলো মোটেই কাম্য নয়।
বাংলাদেশে জনগণের সংখ্যা প্রায় বিশ কোটি , ভোটার সংখ্যা প্রায় তেরো কোটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় সাত কোটি প্লাস। তাহলে এখানে আওয়ামী লীগের ভোটারেরা নীরবে ভোট বর্জন করেছে বলে ধারণা করা যেতেই পারে। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের ভোটারদের কে অবশ্যই সব দলে টানা উচিৎ। এসব না করে যদি আওয়ামী লীগের মত বদ চরিত্রের মত চরিত্র দেখানো হয়, দুদিন আগে আর পরে তাদের ও পতন নিশ্চিত, এরকম কথা বলাই যায়।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক।
৮. মার্চ ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
বার্তা সম্পাদক : মোঃ বদিয়ার মুন্সী
মফাস্বল সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান।
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকঃ আসাদুজ্জামান খান মুকুল
www.dainikbanglarsangbad.com
ইমেইলঃ dainikbanglarsangbad490@gmail.com
প্রধান কার্যলয়ঃ ৩৬০/১,২তলা ভিটিবির নিকটে,
ডি আইটি রোড রামপুরা ঢাকা।
মোবাইলঃ01736-091515, 01716-698621
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.