মোঃ তুহিন ,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালানো আর বাবার চিকিৎসা খরচ জোগানোর লড়াই করতে করতে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে রোমান আলী। সংসার চালানো আর বাবার চিকিৎসা খরচ জোগানের লড়াইয়ে শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও হার মানেননি তিনি। তার এই সাফল্য এখন এলাকার গর্ব ও অনুপ্রেরণার গল্প।
রোমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তাঁতীপাড়া গ্রামের মো. তোফাজ্জল হক ও রুনা বেগমের একমাত্র ছেলে। সে বজরাটেক সবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকল বিষয়ে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেছে।
ছোটবেলা থেকেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি রোমান। যখন তার বয়স মাত্র চার বছর তখন তার বাবা নিম গাছ থেকে পড়ে মারাক্তকভাবে আহত হন। ভেঙে যায় কোমর, পরবর্তীতে নষ্ট হয়ে যায় একটি কিডনি। পরিবারের উপার্জনের উৎস বন্ধ হয়ে যায়। স্কুলে ভর্তি হলেও তার প্রতিদিনের সময় কাটে রিকশা চালিয়ে। সকালে স্কুল আর বিকেলে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলা।
রোমান আলী বলেন, ‘আমার বাল্যকালে বাবা শারীরিভাবে অচল হয়ে যায়। বড় হয়ে আমাকে পরিবারের হাল ধরতে হয়। পড়ালেখার সময় পড়ালেখা করি, স্কুল থেকে এসে বিকেল বেলা রিক্সা চালায়। আমি হতাস হয়ে গেছিলাম যে, আমি পড়ালেখা করতে পারবো কী না? কিন্তু আমার পড়ালেখার জন্য আমার মা বাবা, আত্নীয় স্বজন, শিক্ষকেরা অনেক সহযোগীতা করেছে। লক্ষ্য ছিল বাবাকে ওষুধের ব্যবস্থার পাশাপাশি সংসার চালানো আর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া।
পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে রোমান বলেন, পড়াশুনার খরচ চালানোর মত আমার কোনো সামর্থ্য নাই। কষ্ট করে হলেও যতদূর সম্ভব পড়ালেখা চালিয়ে যাবো। পড়ালেখা করে আমি মানুষের মত মানুষ হতে চাই।’
আরও পড়ুনঃ নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার শীর্ষ মাদক সম্রাট ‘”ইয়াবা সবুজ’” বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার
রোমানের চাচা মো. জহরুল হক জানান, ‘২০১৩ সালে আমার ছোট ভাই তোফাজ্জল নিম গাছের ডাল কাটতে গিয়ে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ চিকিৎসা চলছে। কোনোভাবে বেঁচে আছে সে। এখন ভাতিজা রোমানই রিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। সারাদিন রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত শরীরে রাতে যতটুকু সময় পেয়েছে মন দিয়ে পড়েছে। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছে। এত প্রতিকূলতার মাঝেও ভালো রেজাল্ট করেছে। কেউ যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ছেলেটা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে এবং মানুষের মত মানুষ হবে।’
রোমানের মা রুনা বেগম বলেন, ‘ছেলে স্কুল থেকে ফিরে কোনো বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাইনি। সংসারের টানাপোড়েনে রাস্তায় নেমেছে রিকশা নিয়ে। রাতে ক্লান্ত শরীরেও বই খুলে পড়তে বসত।’
বাবা তোফাজ্জল হক বলেন, ‘ছেলেটা বড় কষ্ট করে এত ভালো রেজাল্ট করেছে। কিন্তু এখন কীভাবে তাকে কলেজে পড়াব, সেটাই বুঝি না। যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিত, তবে হয়তো ছেলের ভবিষ্যৎ আলোকিত হতে পারত।’
রোমানের এই সাফল্যে এলাকাজুড়ে খুশির আমেজ থাকলেও তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ডুবে আছে। স্বহৃদয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পেলে সে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা রোমান ও তার পরিবারের।
প্রধান উপদেষ্টা : ফরহাদ মাজহার
প্রকাশক ও সম্পাদক : মোঃ আবুল হাসেম
সহকারী সম্পাদক : মোঃ ছাব্বির হোসেন
সহ সম্পাদক : মোঃ গোলাম কিবরিয়া
নির্বাহী সম্পাদক : মেছবাহ উদ্দিন (01884-553490, 01911-206989)
বার্তা সম্পাদক : মোঃ বদিয়ার মুন্সী
মফাস্বল সম্পাদক: মাহবুবুর রহমান।
সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকঃ আসাদুজ্জামান খান মুকুল
www.dainikbanglarsangbad.com
ইমেইলঃ dainikbanglarsangbad490@gmail.com
প্রধান কার্যলয়ঃ ৩৬০/১,২তলা ভিটিবির নিকটে,
ডি আইটি রোড রামপুরা ঢাকা।
মোবাইলঃ01736-091515, 01716-698621
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ
Copyright © 2026 Dainik Banglar Sangbad. All rights reserved.